Home » জাতীয় » গৌরনদীতে চিকিৎসকের অবহেলায় গৃহবধূর মৃত্যু

গৌরনদীতে চিকিৎসকের অবহেলায় গৃহবধূর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ চিকিৎসকের অবহেলায় শারমিন বেগম (২০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে দশটার দিকে জেলার গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে।

মৃত রোগী শারমিন বেগমের পাশ্ববর্তী কালকিনি উপজেলার রমজানপুর গ্রামের মোঃ জসিম উদ্দিনের স্ত্রী। শারমিনের বোন চায়না বেগম অভিযোগ করেন, হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক ডাঃ মাহাবুব মির্জার অবহেলায় তার বোনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, তার বোন শারমিন বেগম শনিবার রাতে হঠাৎ করে ঠান্ডাজনিত কারণে শ্বাসকস্টে আক্রান্ত হয়। তাকে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্মরত চিকিৎসক ডাঃ মাহাবুব মির্জা স্থানীয় আশা প্যাথলজির মালিক পান্না কাজীর দোকানে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। চায়না বেগম আরও জানান, সেখানে শারমিন তার তিন মাসের কন্যা শিশুকে বুকের দুধ পান করানোর পর পান্না কাজী শারমিনকে লেবুলাইজার গ্যাস দিয়ে একটি ইনজেকশন পুশ করার পরই শারমিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে।

চায়না বেগম আরও জানান, ডাক্তারের অবহেলায় তার বোন মারা যাওয়ার অভিযোগ তুলে কান্নাকাটি শুরু করার পর পরই বিষয়টি ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য হাসপাতালের ওই চিকিৎসক এবং প্যাথলজির মালিকের কতিপয় দালালরা তড়িঘড়ি করে এ্যাম্বুলেন্সযোগে শারমিনের লাশসহ তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি (চায়না) উল্লেখ করেন।

অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগের ব্যাপারে ডাঃ মাহাবুব মির্জার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রোগীকে বরিশাল নেয়ার পরামর্শ দেয়ার পর তারা স্থানীয় প্যাথলজিতে গিয়ে কি করেছে তা আমার জানা নেই।

গৌরনদী মডেল থানার এসআই তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে পৌঁছার পূর্বেই মৃতের লাশ এ্যাম্বুলেন্সযোগে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকের অবহেলায় শারমিন বেগম নামের ওই রোগীর মৃত হয়েছে বলে তার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন বলে স্থানীয়রা পুলিশকে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও এসআই উল্লেখ করেন। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীরা অভিযুক্ত চিকিৎসক ও আশা প্যাথলজির মালিকের পক্ষালম্বন করে উঠেপরে লেগেছে। আশা প্যাথলজির মালিক পান্না কাজীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবসায়ীক পার্টনার পরিচয়ে জিয়া নামের এক ব্যক্তি বলেন, শারমিনকে লেবুলাইজার গ্যাস দেয়া হয়েছিলো ইনজেকশন পুশ করার অভিযোগ সঠিক নয়।