Home » বরিশাল » কলেজ ছাত্র সাকির হত্যাকান্ড থানা থেকে আসামি ছেড়ে দেয়ায় স্বজনদের ক্ষোভ
কলেজ ছাত্র সাকির হত্যাকান্ড থানা থেকে আসামি ছেড়ে দেয়ায় স্বজনদের ক্ষোভ
কলেজ ছাত্র সাকির হত্যাকান্ড থানা থেকে আসামি ছেড়ে দেয়ায় স্বজনদের ক্ষোভ

কলেজ ছাত্র সাকির হত্যাকান্ড থানা থেকে আসামি ছেড়ে দেয়ায় স্বজনদের ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ কলেজ ছাত্র সাকির হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার ছয়দিন পরেও কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অপরদিকে এ মামলার একজন আসামিকে আটকের পর মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে থানা থেকে ছেড়ে দেয়ায় নিহতের স্বজনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে এলাকায় চলছে চরম উত্তেজনা। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গত দুইদিনে আসামিদের বাড়ী-ঘর, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে কয়েকদফা হামলা ও ভাংচুরসহ মহাসড়ক অবরোধ এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে নিহত কলেজ ছাত্রের স্বজন, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। ঘটনাটি জেলার গৌরনদী পৌর এলাকার আশোকাঠী মহল্লার।
জানা গেছে, থানা থেকে আসামি ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি জেনে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের উর্ধŸতন মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাকিরের মা আলেয়া বেগম ও বড় ভাই জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা সাকিরের ওপর হামলাকারী ও হত্যা মামলার ৬নং আসামি ফাহিমকে (১৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। গৌরনদী মডেল থানার এসআই সামসুদ্দিন ফাহিমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ফাহিমকে আটক করে থানায় আনার পর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলামের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।
সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ২২ নভেম্বর পালরদী মডেল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মানববন্ধন চলাকালীন সেখানে পরিদর্শনে আসেন বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মফিজুল ইসলাম মিঠু। এসময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সাকির হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত ফাহিমকে আটক করে থানায় ধরে নিয়ে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে ওসির বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে গত ২৪ নভেম্বর দুপুরে আশোকাঠী গ্রামের নিহত কলেজ ছাত্র সাকিরের কবর জিয়ারত ও শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করতে যান বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস। এসময় নিহতের মা আলেয়া বেগম ও পরিবারের সদস্যরা থানা থেকে সাকির হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আসামি ফাহিমকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি নিয়ে ওসির বিরুদ্ধে সাংসদদের কাছে অভিযোগ করেন। বিষয়টি জেনে সাংসদরা ক্ষুব্ধ হন এবং দ্রুত সাকির হত্যা মামলার সব আসামিকে গ্রেফতারের আশ্বাস দেন। এরপর থেকেই পুলিশের উর্ধ্বতন মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
এজাহারে জানা গেছে, গত ২১ নভেম্বর সকালে স্থানীয় যুবলীগ কর্মী সোহেল গোমস্তা, ইলিয়াছ খান, সুমন হাওলাদার, ইমরান মীর, ফাহিমসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনে পালরদী মডেল স্কুল এন্ড কলেজ ক্যাম্পাসে এসে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তপন কুমার রায়কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একাদশ শ্রেনীর ছাত্র সাকির গোমস্তা এর প্রতিবাদ করায় বখাটেরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। ওইদিন দুপুরে পরীক্ষা শেষে বাড়ী ফেরার উদ্দেশ্যে সাকির কলেজ গেটের সামনে বের হলে ওই বখাটেরা তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও পরবর্তীতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ওইদিন গভীর রাতে সাকির মারা যায়। এ ঘটনায় নিহত সাকিরের মা আলেয়া বেগম বাদি হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেণ। কিন্তু গত ছয়দিনেও কোন আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরদিকে রবিবার দুপুরে নিহত সাকিরের নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্মরণসভা ও দোয়া-মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা নিহত কলেজ ছাত্রের হত্যাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সাকির হত্যা মামলার আসামি ফাহিমকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ফাহিমকে ছেড়ে দেয়া হয়নি, সে থানা থেকে পালিয়ে গেছে। সে (ফাহিম) নবম শ্রেনীর ছাত্র তার পরনে স্কুলের ইউনিফরম থাকায় তাকে হাজতে রাখা হয়নি। তিনি আরও জানান, আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের জোর প্রচেষ্ঠা চলছে।