Home » খেলাধূলা » ম্যাচ বাঁচাতে পারবে কী বাংলাদেশ?
Bangladesh batsman Mohammad Mahmudullah plays a shot during the third day of the first Test cricket match between South Africa and Bangladesh in Potchefstroom on September 30, 2017. / AFP PHOTO / GIANLUIGI GUERCIA

ম্যাচ বাঁচাতে পারবে কী বাংলাদেশ?

বৃষ্টির কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের মধ্যকার প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনের শেষ সেশনের খেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। ৪২৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে টাইগাররা ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৯ রান করেছে।

জিততে হলে আরও প্রয়োজন ৩৭৫ রান। হাতে আছে আরও ৭ উইকেট। এরমধ্যে শেষের তিনজন মূলত বোলার। তাছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজও ব্যাট হাতে এখনও কার্যকর কোনো ইনিংস খেলতে পারেনি।

শেষদিনে ৩৭৫ রান করা একেবারেই অসম্ভব। তবে মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যদি ধৈর্য ধরে বড় কোনো ইনিংস উপহার দিতে পারেন তাহলে অন্তত এই টেস্ট ড্র করা সম্ভব। তাছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার আবহাওয়া যা বলছে তাতে সেখানে সোমবার শেষ দিনেও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায়। মরনে মরকেলের বোলিং তাণ্ডবে প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন তামিম ইকবাল এবং মুমিনুল হক। তাদের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি।

অবশ্য মুমিনুল হকের উইকেটটা উপহারই বলা চলে। আম্পায়ারের দেয়া লিগ বিফোরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নিলেই বেঁচে যেতেন মুমিনুল। কিন্তু ইমরুল কায়েসের সঙ্গে পরামর্শে রিভিউ না নিয়েই সাজঘরের পথ ধরেন আগের ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাট করা এ বামহাতি ব্যাটসম্যান।

দুই উইকেট হারিয়ে যখন দল দিশেহারা তখনই আবারও মরকেলের আঘাত। এবার বোল্ড মুশফিকুর রহিম! তবে কপালগুণে বেঁচে যান তিনি। মরকেলের বলটি টিভি রিপ্লে দেখে নো বল বলে ঘোষণা করেন থার্ড আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা।

এরপর ইমরুল কায়েসের সঙ্গে দলকে টেনে নেয়ার চেষ্টা করেন মুশি। এরমধ্যে ইমরুল কায়েস ব্যক্তিগত ৮ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। তবে ফাফ ডু প্লেসিস তা ধরতে ব্যর্থ হন।

একবার জীবন পেয়েও ইমরুল কায়েস তার ইনিংসকে বড় করতে পারেননি। বার বার দলে সুযোগ পাওয়া ইমরুল মাত্র ৩২ রান করে ডিককের হাতে ধরা পড়েন। বাংলাদেশের রান তখন ৪৯। এরপরই চা বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। তবে বৃষ্টির কারণে আর কোনো বল মাঠে গড়ায়নি।

এর আগে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে প্রোটিয়ারা। মুমিনুল হক দুর্দান্ত বল করেন। মুমিনুল  ফিরিয়েছেন ডু প্লেসিস, টিম্বা বাভুমা ও কুইন্টন ডিকককে।

টিম্বা বাভুমাকে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন মুমিনুল। তবে এখানে লিটন দাসের ভূমিকাই বেশি। দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন তিনি। বাভুমা ৭১ রান করেন। অবশ্য ইমরুল কায়েসের কল্যাণে একবার জীবন পেয়েছিলেন বাভুমা।

এরপরই ৮ রান করা ডিকককে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন মুমিনুল। ব্যাটিংয়ে দ্যূতি ছড়ানোর পর এখন বল হাতেও আলো ছড়ান এই বামহাতি।

লাঞ্চ বিরতির পর মাঠে নেমে ব্যক্তিগত ৮১ রান করে মুমিনুলের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন ডু প্লেসিস।

বাকি তিনটি উইকেটের ২টি মোস্তাফিজ এবং ১টি শফিউল ইসলাম লাভ করেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করে ৩ উইটে ৪৯৬ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে বাংলাদেশ ৩২০ রানে অলআউট হয়।