Home » সম্পাদকীয় » তাজিয়া মিছিল / হারাম / কুসংস্কার / বিদায়াত

তাজিয়া মিছিল / হারাম / কুসংস্কার / বিদায়াত

কারবালাকে কেন্দ্র করে সমাজে কিছু হারাম কাজ প্রচলিত রয়েছে। শিয়াদের কয়েকটি দল এ দিনকে শোক দিবস হিসেবে পালন করে। এদিন তারা গণ্ডাদেশ জখম করে, বুকের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহিলী সব কথাবার্তা বলে। এরা এমন অবস্থায়ও উপনীত হয় যে, নিজে নিজেকে ক্ষত-বিক্ষত করে। কেউ কেউ তরবারী দিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্ত বয়ে দেয়। তাদের দাবী, এভাবে তারা হুসাইন রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা ‘আনহুকে হারানোর বেদনা প্রকাশ করে। এরা নিজেদের তাঁর একান্ত ভক্ত ও অনুসারী বলেও দাবী করে। মিডিয়াগুলোও এমনভাবে প্রচার করে যেন তারাই একমাত্র আহলে বাইত বা রাসূল-পরিবারের ভক্ত। যারা তাদের মতো কাজ করে না তারা আহলে বাইত-এর ভক্ত নয়। এটা একদম নির্জলা মিথ্যাচার। কারণ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতই তো আহলে বাইতকে সর্বাধিক ভালোবাসে। কিন্তু তারা ভালোবাসা দেখাতে গিয়ে শরীয়ত লঙ্ঘন করে না। রাফেজিরা নিজেরা নিজেদের আহত ও বিক্ষত করার আসল কারণ- তারা (রাফেজিরা) যা প্রকাশ করে না তা হলো, তারাই তো হুসাইন রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা ‘আনহু কে অসম্মান করেছিল যখন তিনি কুফার ভূমিতে তাদের কাছে এসেছিলেন। [আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ১১/৫৩০-৫৩২]

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সমস্ত আলেমদের ঐক্যমত্য শিয়ারা ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে তারা কাফির। কারবালা দিবসে শোক প্রকাশ করতে গিয়ে গালে ছুরি চালানো, বুকে চাপড়ানো এবং নিজেকে ক্ষত-আহত করার যে রেওয়াজ ইদানীং শিয়ারা চালু করেছে, সেটা হারাম। এটি শরীয়ত কর্তৃক অনুমোদিত ভালোবাসার মধ্যে পড়ে না। গালে আঘাত করা, বুকের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা কিংবা নিজে নিজেকে কষ্ট দেয়া অবৈধ, হারাম।

ইমাম বুখারী এবং মুসলিম (রহঃ) আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘সে আমাদের উম্মতভুক্ত নয় যে গালে আঘাত করে, বুকের কাপড় ছেঁড়ে এবং জাহেলী কথাবার্তা বলে। [বুখারীঃ ১২৯৪, মুসলিমঃ ১০৩]

বুখারী ও মুসলিম (রহঃ) আবূ মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ‘আমি তাদের থেকে মুক্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাদের থেকে মুক্ত। আর সাল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (শোকে) মাথা মুণ্ডনকারিণী, বিলাপকারিণী এবং বুক বিদীর্ণকারিণী থেকে মুক্ত। [বুখারীঃ ১২৩৪, মুসলিমঃ ১০৪]

অনুরূপভাবে আবূ মালেক আশআরী রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা ‘আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আমার উম্মত জাহেলী যুগের চারটি স্বভাব সহজে ছাড়তে পারবে না। বংশ নিয়ে গর্ব, বংশ তুলে গালি দেয়া, তারকা দেখে বৃষ্টি চাওয়া এবং মৃত ব্যক্তির ওপর বিলাপ করা। তিনি বলেন, বিলাপকারিণী যদি মৃত্যুর আগে তওবা না করে তাহলে কেয়ামতের দিন তাকে এমনভাবে উঠানো হবে যে, তার সর্বাঙ্গ খোস-পাঁচড়া ও আলকাতরায় ভরা থাকবে। [মুসলিমঃ ৯৩৪]

হযরত ইবনে হাজার মাক্কি (রহঃ) বলেন, খবরদার তোমরা আশুরার দিনে শিয়াদের সৃষ্ট বিদআতে লিপ্ত হয়ো না। হায় হোসাইন ! হায় হোসাইন ! ইত্যাদি বলে কান্নাকাটি করো না। কারণ এসব কার্যকলাপ মুসলমানদের শোভা পায় না।
লেখাটি বিশিষ্ট ব্যক্তির ফিড থেকে নেয়া,