Home » ভোলা » লাখো ভক্তদের নীলিমায় দুটি চোখ ভাসিয়ে দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন লাকি আখন্দ।

লাখো ভক্তদের নীলিমায় দুটি চোখ ভাসিয়ে দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন লাকি আখন্দ।

আকতারউজ্জামান সুজন ভোলা থেকে : শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর আরমানিটোলার নিজ বাসায় মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। লাকী আখন্দের মেয়ে মাম্মিন্তি বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে খ্যাতিমান এই সঙ্গীত শিল্পীকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। সন্ধানী মন কত ছন্দে মগ্ন, ফিরে পাবো বুঝি সেই গানের লগন, নীলিমায় দুটি চোখ ভাসিয়ে দিয়ে পথ চেয়ে থেকো, সবচাইতে জনপ্রিয় ” এই নীল মনিহার গানটিতে ঠিক এই রকমই কথা গুলুকে সুরে সুরে গেয়ে অনেক ভক্তদের হৃদয়ে সহজে জায়গা করে নিয়েছিল, বিখ্যাত এই সংগীত কিংবদন্তি। ১৯৮৪ সালে সারগামের ব্যানারে লাকি আখন্দের প্রথম সলো অ্যালবাম লাকি আখন্দ প্রকাশ পায়। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একের পর এক জনপ্রিয় গানের সৃষ্টি করেছেন এ কিংবদন্তি। ‘লিখতে পারি না আজ কোনো গান তুমি ছাড়া’, ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’, ‘এই নীল মনিহার’, ‘যেখানে সীমান্ত তোমার, কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে রাতের নির্জনে, ‘তুমি কী দেখেছো পাহাড়ি ঝরনা’, ‘তুমি ডাকলে কাছে আসতাম সে তো জানতেই’সহ আরও অনেক জনপ্রিয় গান তার গাওয়া, সুরারোপ ও সঙ্গীতায়োজনে করা। লাকী আখন্দের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৮ জুন। ৫ বছর বয়সেই তিনি তার বাবার কাছ থেকে সংগীত বিষয়ে হাতেখড়ি নেন। তিনি ১৯৬৩-১৯৬৭ সাল পর্যন্ত টেলিভিশন এবং রেডিওতে শিশু শিল্পী হিসেবে সংগীত বিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তিনি মাত্র ১৪ বছর বয়সেই এইচএমভি পাকিস্তানের সুরকার এবং ১৬ বছর বয়সে এইচএমভি ভারতের সংগীত পরিচালক হিসেবে নিজের নাম যুক্ত করেন। ১৯৬৯ সালে লাকি আখন্দ পাকিস্তানী আর্ট কাউন্সিল হতে বাংলা আধুনিক গান বিষয়শ্রেণীতে পদক লাভ করেন । ১৯৮৭ সালে ছোট ভাই ‘হ্যাপী আখন্দের’ মৃত্যুর পরপর সঙ্গীতাঙ্গন থেকে তিনি অবসর নেন। দীর্ঘদিনের বিরতি শেষে ২০১৩ সালে সম্প্রতি তিনি আবারো অ্যালবাম করছেন দুই বাংলাকে এক সুরে বেঁধে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ সংগীত জগত গভীর শোক প্রকাশ করেন।