Home » খেলাধূলা » ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষায় বাংলাদেশ

ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষায় বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্কঃ    কলম্বো টেস্টে ধৈর্যের কঠিন এক পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন মুশফিকরা। যেখানে ধৈর্য ধরে শেষ দেখা ছাড়া আর কোনো উপায়ই নেই। কলম্বো টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দুই উইকেট হাতে রেখে ১৩৯ রানে লিড নিয়েছে লঙ্কানরা।
মুশফিকুর রহিমকে ধৈর্য ধরতে হলো লাকমালের অখেলোয়াড়সূলভ আচরণের সময়েও। সাব্বিরের দিকে এভাবেই তেড়ে যাচ্ছিলেন লাকমাল।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেনেম ৫৫ ওভারের মধ্যে প্রথম ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। তখন মনে হয়েছিলো আজই তাদের অলআউট করে জয়ের নির্ধারিত লক্ষ্যের পিছনে ছুটবে বাংলাদেশ। কিন্তু তা হলো না।

কারণ বাকি ৪৫ ওভারে বাংলাদেশ লঙ্কানদের মাত্র দুটি উইকেট ফেলতে পেরেছে। চতুর্থ দিন শেষে আট উইকেট হারিয়ে লঙ্কানদের সংগ্রহ ২৬৮ রান। তাদের পতন হওয়া আট উইকেটের তিনটি নিয়েছেন মোস্তাফিজ, তিনটি সাকিব ও একটি করে দুটি ভাগ করে নিয়েছেন মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম।

তৃতীয় দিন শেষে ৫৪ রান তুলে রেখেছিলো লঙ্কানরা। তখনো বাংলাদেশ এগিয়েছিলো ৭৫ রানে। কিন্তু ২০০ রান তোলার আগে বাংলাদেশ ছয় উইকেট তুলে নেয়। প্রথম উইকেটটা ফেলেন মিরাজ। উপুল থারাঙ্গাকে এ দিন নিজের প্রথম বলে বিদায় করেন তিনি। এরপর একে কুসাল মেন্ডিস ও চান্দিমালকে তুল এনেন মোস্তাফিজ। মেন্ডিস প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন। ঠিক আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন চান্দিমাল। এ দুজনকে তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচের লাগাম এনে দেন মোস্তাফিজ।

কিন্তু একপ্রান্ত আগলে ধরে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন করুনারত্নে। অন্যপ্রান্ত থেকে গুনারত্নে, ডিকবেলা ও ডি সিলভা বিদায় নিলেও করুনারত্নে তুলে নেন তার সেঞ্চুরি।

সপ্তম উইকেটে দিলরুয়ান পেরেরাকে সঙ্গে বাংলাদেশের যন্ত্রণা হয়ে হাজির হন করুনারত্নে। সপ্তম উইকেটে এ দুজন গড়েন ২২.২ বলের বিশাল জুটি। দীর্ঘ জুটিতে মাত্র ২২ রান তুলেছেন তারা। কিন্তু রানে নয়, এই জুটির মাহাত্ম্য লুকিয়ে আসলে বল খেলার দক্ষতায়।
এই জুটির ঠিক আগের চারটি জুটি সব মিলিয়ে খেলেছে মোটে ১৪ ওভার এক বল। এতেই বোঝা যায় কতোটা দৃঢ়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন এ দুজন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। সেঞ্চুরিয়ান করুনারত্নেকে বিদায় করেন তিনি। শততম টেস্টে জয়ের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশের সামনে থেকে দূর হয় আরকেটা বাঁধা।

এর আগে কুসাল মেন্ডিস, দিনেশ চান্দিমাল, গুনারত্নে ও ডি সিলভাকে কয়েক ওভারের মধ্যেই বিদায় করেন সাকিব- মোস্তাফিজরা। এরপর বাংলাদেশ যখন সহজ একটা লক্ষ্যের আশায় বোলিং করে যাচ্ছিলো, তখনই হিমালয়ের দৃঢ়তায় দাঁড়িয়ে যান করুনারাত্নে ও দিলরুয়ান।

এ জুটি ভাঙার নয় ওভার পাঁচ বল পর হেরাথকে ফেরান তাইজুল। কিন্তু তারপর আবার দাঁড়িয়ে যান দিলরুয়ান পেরেরা ও লাকমাল। নবম উইকেট জুটিতে আট ওভার চার বল ব্যাটিং করে ৩০ রান যোগ করেছেন তারা।

এ দিকে চতুর্থ সমালোচনায় ছিলো আম্পায়ারিংও। বিশেষ করে পাকিস্তানি আম্পায়ার আলিম দারের ‘পারফর্ম্যান্স’ ছিলো চোখে লাগার মতো। অন্তত একটি নিশ্চিত আউট তিনি বাংলাদেশকে দেননি। সব মিলিয়ে নিজেদের শততম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ আপাতত কঠিন এক পরীক্ষারই মুখোমুখি।