Home » ক্যাম্পাস » মালয়েশিয়ায় পড়ার ব্যাপক সুযোগ বাংলাদেশিদের

মালয়েশিয়ায় পড়ার ব্যাপক সুযোগ বাংলাদেশিদের

পূর্ব এশিয়ার দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ মালয়েশিয়ায় শুধু কাজের সম্ভাবনা নয়, রয়েছে পড়াশোনারও ব্যাপক সুযোগ। রয়েছে পড়াশোনার

পাশাপাশি কাজের সুযোগ, থাকা-খাওয়ার সহজলভ্যতা। অনেকটা বাংলাদেশের মতোই হওয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে মালয়েশিয়া। শুধু তা-ই নয়, অবস্থান করার সুযোগ রয়েছে দেশটিতে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের। পাশাপাশি রয়েছে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ব্যবস্থাও। রয়েছে খণ্ডখালীন চাকরির সুযোগ। তাই   বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে পাড়ি জমাচ্ছেন মালয়েশিয়ায়।এশিয়ার আর্থিকভাবে বেশ শক্তিশালী দেশগুলোর একটি মালয়েশিয়া। এটিকে মানুষ মাহাথির মোহাম্মদের  দেশ বলে থাকেন। কারণ তার শাসনামলেই দেশটি বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতির সমৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশটির শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সর্বস্তরে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। দেশটিতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা নিতে আসছে এখানে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছেন মালয়েশিয়ায়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে পড়াশোনার সুযোগ-সুবিধা। একটু মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থী দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো খরচে মালয়েশিয়ায় পড়শোনার সুযোগ পাচ্ছেন। বাংলাদেশ থেকে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা নিতে বিদেশে যান। ভালো ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় অনেকেরই প্রথম পছন্দ মালয়েশিয়া। শুধু জনশক্তি রপ্তানিই নয়, দেশটিতে রয়েছে উচ্চশিক্ষা নিয়ে সেখানেই ভালো কিছু করার সুযোগ। পাশাপাশি এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিরও সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশিদের। মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিবেচনায় এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ এখন মালয়েশিয়া। উচ্চশিক্ষায় বিভিন্ন কোর্সের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাগত ও বিশেষায়িত কোর্সের সুযোগও আছে এখানে। কম খরচে মানসম্পন্ন কোর্সের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের পছন্দের গন্তব্য এখন মালয়েশিয়া। ইংরেজি এখানে বহুল প্রচলিত। তাই বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিশেষ অসুবিধা হয় না। যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের বিভিন্ন নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখাও রয়েছে মালয়েশিয়ায়। আর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একযোগে কোর্স পরিচালনা করছে। ময়মনসিংহের রাফাতুল রিসাত মালয়েশিয়ার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পিএইচডি করতে পড়াশোনা করছেন। জিওমেটিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাচেলর প্রোগ্রামের ছাত্র গাজীপুরের লুত্ফুর রহমান। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজমুল ইসলাম করছেন এমবিএ। জিওমেটিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লুত্ফুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন হয়, ঠিক একই টাকায় মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করা যায়। এখানে একটু বেশি সুবিধা হলো পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করা যায়। আর পাস করে বের হলে তো কথাই নেই। চাকরির অভাব নেই এখানে। এখানে রয়েছে ২০টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ২৪টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউ, ৩৭টি পাবলিক কমিউনিটি কলেজ, ৩৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, চারটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা। রয়েছে ৫০০টির মতো বেসরকারি কলেজ। এ ছাড়া আছে ৩৮টি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, যা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার আদলে গড়া। এসব প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েট, পোস্টগ্র্যাজুয়েট ও ডিপ্লোমা প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে সেখান থেকে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুবিধা। এক কথায় বলা যায়, স্বল্প খরচে ইউরোপ-আমেরিকার শিক্ষা এখন মালয়েশিয়ায়ই পাওয়া যায়। কারণ পশ্চিমের ট্রাস্টেড ও হাইলি ট্রাস্টেড প্রায় সব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এখন মালয়েশিয়ায় তাদের ক্যাম্পাস স্থাপন করেছে। এগুলোর শিক্ষার মান, অবকাঠামো, ক্যাম্পাসসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অভিন্ন। বরং পরিবেশ ও আবহাওয়ার দিক দিয়ে মালয়েশিয়াই এখন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ। থাকা-খাওয়াসহ মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার ব্যয় ইউরোপের এক-তৃতীয়াংশ। দেশটি বাংলাদেশ থেকে স্বল্প দূরত্বে হওয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য সবকিছুই তুলনামূলক সহজসাধ্য। ইউরোপ, জার্মানির মতো এখানেও রয়েছে পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ। খণ্ডকালীন কাজ করে বছরে একেকজন শিক্ষার্থী ন্যূনতম ১০ হাজার রিংগিত আয় করতে পারেন। বিশেষ করে দেশটির ৪, ৫ ও ৬ তারকা মানের হোটেল কিংবা ফাইন-ডাইনিং রেস্টুরেন্টে রয়েছে চমৎকার চাকরির সুযোগ। মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে নানা তথ্য দেওয়া আছে। মালয়েশিয়ার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি বিভাগের প্রধান শামীম রেজা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা বাংলাদেশিদের সুবিধা বেশি। এটি বাংলাদেশ থেকে স্বল্প দূরত্বের দেশ। এ ছাড়া আবহাওয়া অনেকটা বাংলাদেশের মতোই। আরেকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ভর্তি কর্মকর্তা লিমন আহমেদ বলেন, মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ভর্তি হচ্ছেন বেশি। মনিপাল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ের খণ্ডকালীন লেকচারার মো. মনির হোসেন বলেন, এখানে সহজ শর্তে বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হতে পারেন, যেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশে তাদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। একই কথা বললেন শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুক হোসেন ও মো. শফিকুল ইসলাম। মালয়েশিয়ার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন অনুমোদন হলে অনুমোদনপত্র ও স্টুডেন্ট পাস নিয়ে ভিসা ইস্যুর জন্য আবেদন করতে হবে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টে। ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের অনুমোদন নিয়ে কোর্স চলাকালে শিক্ষার্থীর বাবা-মা মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে পারবেন। আর পোস্টগ্র্যাজুয়েট কোর্সের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্বামী, স্ত্রী, সন্তানরা পারবেন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে।

– See more at: http://www.bd-pratidin.com/last-page/2016/08/22/164859#sthash.2pEEqk53.dpuf