Home » বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি » গর্ভবতী নারীর ভিটামিন ওষুধ খাওয়া মানে টাকার অপচয়

গর্ভবতী নারীর ভিটামিন ওষুধ খাওয়া মানে টাকার অপচয়

একটি মেয়ে তার জীবনের পূর্ণতা পায় মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণের মাধ্যমে। গর্ভকালীন অবস্থা মেয়েদের জন্য খুব কঠিন সময়। শরীরের সামান্যতম পরিবর্তনের দিকেও খেয়াল রাখতে হয়। থাকতে হয় নিয়মিত ডাক্তারদের দেখভালে। বাড়তি খাবারের সঙ্গে সঙ্গে থাকে নানা ধরনের ভিটামিন এবং শরীরের সহায়ককারী মিনারেল ওষুধ।তবে এই ভিটামিন এবং সহায়ককারী মিনারেলগুলো শরীরের জন্য কতখানি প্রয়োজনীয় তা জানেন কী?ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে, মাতৃত্বকালীন সময়ে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ওষুধ খাওয়া অপ্রয়োজনীয়। এটি শুধুমাত্র টাকার অপচয়।গর্ভবতী লাখ লাখ মেয়েরা মনে করেন, ওষুধের মাধ্যমে গ্রহণ করা ভিটামিন বা মিনারেল শিশুর সুস্থ জীবন যাত্রা শুরু করে গর্ভাবস্থা থেকেই। কিন্তু তাদের এই ধারণা ভুল।

গর্ভবতী মায়েদের বরং তাদের দৈনিক খাবারের প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত এবং সেই খাবারগুলোর প্রতি যেগুলোতে প্রাকৃতিকভাবে ফলিক এসিড ও ভিটামিন ‘ডি’ রয়েছে।

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের অধীনে একটি ড্রাগ এবং থেরাপিউটিক্স বুলেটিনও কাজ করেছিল বিশেষজ্ঞ হয়ে। এই বুলেটিনটি মূলত চিকিৎসা ব্যবস্থা, পিলস ও ড্রাগ বা ঔষধ নিয়ে কাজ করে। এবং তারা বিভিন্ন জায়গার প্রায় এক লাখ গর্ভবতী মায়েদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা লক্ষ্য করেন যে, সব গর্ভবতী মায়েরা তাদের গর্ভকালীন অবস্থায় কম অথবা বেশি ওষুধের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এবং সহায়ককারী মিনারেল গ্রহণ করে থাকেন।গর্ভবতী মায়েরা মনে করেন যে, এই অতিরিক্ত ভিটামিন ও মিনারেল তাদের গর্ভের সন্তানকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করবে। যেমন গর্ভকালীন ও বাচ্চা জন্মদানের নানা জটিলতা, অ্যাবরশন না হয়ে যাওয়া, শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমাট বাধতে না দেওয়া, ন্যাচারাল টিউব ডিফেক্টস এবং বাচ্চার যাতে কম ওজন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা।গর্ভকালীন অবস্থায় মায়েরা মূলত যে সব ভিটামিন ওষুধ এবং মিনারেল গ্রহণ করেন সেগুলো হলো ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৬, বি১২, সি, ডি, ই, কে, ফলিক এসিড, আয়োডিন, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, কপার, জিঙ্ক, সেলেনিউম এবং এই ওষুধগুলোর পেছনে বেশ বড় অংকের একটা টাকা খরচ হয় প্রতি মাসে। কিছু মায়েরা সাধারণ খাবার গ্রহণের মাধ্যমেই শরীরে এই ভিটামিন ও মিনারেল গুলোর চাহিদা মেটান কিন্তু যারা গর্ভকালীন খাদ্য তালিকা মেনে চলেন না তাদের জন্য বড়জোর ফলিক এসিড এবং ভিটামিন ডি এর দরকার হয়।

 

 

ডি ড্রাগ এবং থেরাপিউটিক্স বুলেটিনের ড. জেমস কেভ বলেন, ‘আমরা এ ধরনের কোনো সূত্র খুঁজে পায়নি যে সকল গর্ভবতী মায়েদেরই বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও সহায়ককারী মিনারেল গ্রহণ করতে হবে, শুধুমাত্র ফলিক এসিড এবং ভিটামিন ডি এর কথা বলা হয়, তবে তা কোনো প্রকার বাড়তি খরচ ছাড়াই পাওয়া সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে গর্ভবতী মায়েরা এই অতিরিক্ত ওষুধগুলো নিয়ে থাকেন।’‘তারা আসলে জানেন না কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল। কী জিনিস গ্রহণ করা উচিত আর কোনটা নয়। আর তাছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিগুলো তাদের ওষুধগুলোর বিভিন্ন প্রচারণা করেন যাতে শুধুমাত্র অনিশ্চিত ভালো দিকের কথা বলা থাকে। যার বেশিরভাগই গর্ভবতী মায়েদের জন্য দরকার নয়।’

 

ড. জেমস কেভের মতে, ‘গর্ভবতী মায়েদের দরকার একটি সুষম খাদ্য তালিকা। যে তালিকা থেকে তিনি পেতে পারেন সব ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল। প্রাকৃতিকভাবে আমরা যে খাবার খাই তা থেকেই আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধের জন্য সকল উপাদান পাওয়া যায়। তাই যখন একজন গর্ভবতী মা তার সুষম খাদ্য তালিকাটি মেনে খাবার গ্রহণ করেন তখন তার আর কোনো বাড়তি ভিটামিন বা সহায়ক মিনারেলের দরকার হয় না।’‘অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। আমাদের ওষুধ কোম্পানিগুলো তাদের প্ররোচনার সময় এই খারাপ দিকগুলো এড়িয়ে চলেন।’

‘প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত খাবারে লুকিয়ে আছে আপনার সকল চাহিদা। তাই শুধু শুধু অতিরিক্ত খরচ কেন করবেন।’

‘যারা ইতিমধ্যে মা হয়ে গেছেন তাদেরকে বলবো ভবিষ্যতে এমন ভুল না করার জন্য। আর যারা মা হওয়ার কথা ভাবছেন তাদেরকে বলবো আপনার সম্মুখে সকল দ্বার খোলা। চাইলে আপনি ঘরে বসেই সব তথ্য যোগাড় করতে পারেন মাতৃত্বকালীন অবস্থার। জেনে শুনে খাবার বা ওষুধ গ্রহণ করুন। কারো প্ররোচনা বা কেউ বলছে বা কেউ করছে এই ভেবে নয়। ভালো থাকুন এবং সুস্থ থাকুক আপনার অনাগত সন্তান।’